ইসলাম-ধর্ম ও দর্শনমন্তব্য নেই

অস্ত্র নয় . কালেমাই মুসলমানদের শক্তি ।

হযরত খাজা মাঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) ভারতে আসার পূর্বে আফগানিস্তানের অন্তর্গত ঘোর প্রদেশের সাধনকর্তা মঈমুদ্দীন মুহাম্মদ বিন সাম, যিনি শাহাবুদ্দীন মুহাম্মদ ঘোরী নামে সমধিক পরিচিত । ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার উদ্দেশে তিনি ভারতে একুশ বার আক্রমণ করেন এবং একুশ বার তিনি পরাজিত হন ।

বাইশ বারের মাথায় তিনি সৈন্যদল নিয়ে ভারত থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে দেখা হয় খাজায়ে খাজগা , আতায়ে রাসুল , সুলতানুল হিন্দ মাঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) এর কাফেলার সাথে । শাহাবুদ্দীন জিজ্ঞেস করলেন আপনারা মুসলমান ?

মাঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) বলেন হ্যা আমরা মুসলমান ।

আপনারা কোথায় যাচ্ছেন ?

মাঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) জবাব দিলেন ” আমরা ইসলাম (শান্তির বাণী) প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারত যাচ্ছি ।

শাহাবুদ্দীন ঘোরি বললেন” হুজুর আপনি ঐ দিকে যাবেননা কারণ ইতিমধ্যে আমরা বাইশবার ভারত আক্রমণ করেছি অনেক সৈনিক , অস্ত্র থাকতেও জয় হতে পারিনি , আপনারা মাত্র কয়েকজন লোক সাথে কোনো অস্ত্র নেই , এই অবস্হাই আপনারা ভারত ডুকলে আপনাদের বিপদ হবে । আমাদের সাথে ফিরে আসুন ।

মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) বলেন” তোমরা ভারত আক্রমণ করে পরাজিত হয়েছ , তোমারা জনবল নিয়ে অস্ত্রের বল নিয়ে হিন্দুস্থানে ডুকেছ , তোমাদের বল হল অস্ত্র , এজন্য তোমরা মার খেয়েছ ।

মাঈনুদ্দীন দুনিয়ার কোনো অস্ত্রের উপর সৈন্যের উপর ভরসা করে হিন্দুস্থানে ডুকবেনা । গারিবে নেওয়াজ তার রাসুলে পাকঁ (সাঃ) এর গোলাম সেজে হিন্দুস্থানে প্রবেশ করবে ।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

উপরুক্ত ঘটনা দ্বারা মাঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) প্রমাণ করে দিলেন , ইসলাম মাথা কাটার ধর্ম নয় , ইসলাম পায়ের রগ কাটার ধর্ম নয় , ইসলাম বোমাবাজির ধর্ম নয় । সন্ত্র�সের স্থান ইসলামে নেই । ইসলাম শান্তির ধর্ম ।

শুধু খাজা মাঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) নয় , পৃথিবীতে যত ওলি আউলিয়ে এসেছেন সবাই শান্তির ধর্ম প্রচার করেছেন শান্তির বাণী দিয়ে , অশান্তির অস্ত্র দিয়ে নয় ।

বাংলাদেশে এসেছিলেন হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) এক হাতে পবিত্র কোরআন অন্য হাতে তরবারি , তিনি গোর গবিন্দের রাজ্য ধংশ করতে তরবারি ব্যবহার করেননি শুধু আজান দিয়ে সমস্ত কিছু ধংশ করেছিলেন ।

হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ)

খাজা মাঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ)

হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) সহ সমস্ত বড় বড় ওলি গণ যে কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছেন আমরাও সেই কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছি । পার্থক্য শুধু তারা কালেমা পাঠ করে কালেমার সাথে যুক্ত থাকা সকল কিছু খোঁজে বেড় করে তা পালন করে পুরোপুরি ইসলামে ডুকেছেন ।

তাই তাদের আজানের এত শক্তি যে আজানের সুরে প্রসাদ ভেঙে ফেলা সম্ভব হয় ।

আমরা কালেমা পেয়েছি বাপ দাদার উত্তর আধিকারী হিসেবে , আমার বাবা মুসলমান তাই আমিও মুসলমান । আমরা জানিনা কি আছে কালেমাতে , এর গভীরতা কত ? জানার চেষ্টাও করি না ।

তাই আমরা ছোট একটা প্রাণী মশার হাতেও রেহাইপাইনা । মশারির ভিতরে গিয়ে পালাতে হয় । নবীর উম্মত মশার ভয়ে , মশারির ভিতরে পালাবে এটা লজ্জা জনক ।

Be the first to post a comment.

Add a comment